News Bulletin-PNG
বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বিকাল ৩:৪৩
  1. অর্থ ও বাণিজ্য
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. ট্যুরিজম
  11. দেশজুড়ে
  12. ধর্ম
  13. নির্বাচন
  14. প্রশাসন
  15. ফিচার

ছোট্ট অসচেতনতা, বড় ভোগান্তি: একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর গল্প

News Bulletin
জুন ১৭, ২০২৬ ৩:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আমি আসিফ। ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি। মধ্যবিত্ত পরিবারের আর দশটা ছেলের মতোই আমার স্বপ্ন আর ব্যস্ততা নিয়ে কেটে যায় দিনগুলো। কিন্তু কিছুদিন আগে আমার জীবনে এমন এক ঝড় বয়ে গেছে, যা আমি কখনো কল্পনাও করিনি। লোকলজ্জা আর তীব্র শারীরিক কষ্টের সেই দিনগুলোর কথা আজ মনে হলে এখনো শিউরে উঠি। আমি আক্রান্ত হয়েছিলাম পাইলস বা অর্শ্বরোগে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুবাদে নানা ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে যুক্ত ছিলাম। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রোগ্রাম, মিটিং আর আড্ডায় মেতে থাকতাম। আর এই ব্যস্ত জীবনের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল বাইরের খাবার। বিশেষ করে কাচ্চি বিরিয়ানি, অতিরিক্ত মসলাদার ঝাল খাবার এবং তৈলাক্ত স্ট্রিট ফুড ছিল আমার দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ। তাছাড়া, আমাদের হলের ডাইনিং সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় প্রতিদিনের তিন বেলার খাবারই আসত বাইরের হোটেল থেকে এবং অধিকাংশ সময় হোটেলে খেয়ে নিতাম ।  অতিরিক্ত মসলা  মিশ্রিত মুখরোচক খাবারের এই ফাঁদে যে আমি নিজে কতটা বড় বিপদ ডেকে আনছিলাম, তা তখন বুঝতে পারিনি।

অসচেতন খাদ্যাভ্যাসের খেসারত দিতে শুরু করলাম কিছুদিন পর থেকেই। প্রথমে হালকা অস্বস্তি হলেও তা পাত্তা দিইনি। কিন্তু একসময় পরিস্থিতি চরমে পৌঁছাল। মলত্যাগের সময় তীব্র ব্যথার সাথে রক্তপাত শুরু হলো। একসময় বসা কিংবা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও আমার জন্য দুঃসহ হয়ে উঠল। পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া তো দূরের কথা, বিছানা থেকে ওঠাই ছিল এক বিরাট যুদ্ধ। লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে কাউকে কিছু বলতেও পারছিলাম না।

যখন কষ্ট সহ্যসীমার বাইরে চলে গেল, তখন বাধ্য হয়েই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলাম। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ডাক্তার জানালেন, আমার অবহেলা আর অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণেই রোগটি এই পর্যায়ে এসেছে। তিনি আমাকে কিছু জরুরি ওষুধ দিলেন এবং কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন—খাদ্যাভ্যাস আমূল বদলে ফেলতে হবে। প্রচুর পানি, শাকসবজি এবং ফাইবারযুক্ত খাবার খেতে হবে। আর এক মাসের মধ্যে যদি অবস্থার উন্নতি না হয়, তবে অস্ত্রোপচার (সার্জারি) ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

‘অস্ত্রোপচার’ শব্দটা শুনেই আমার পায়ের নিচের মাটি সরে গিয়েছিল। জীবনের এই মূল্যবান সময়ে পড়ালেখা আর ক্যারিয়ার গড়ার বদলে আমাকে হাসপাতালের বিছানায় কাটানোর কথা ভাবতে হচ্ছিল। ভুলটা যে সম্পূর্ণ আমারই ছিল, তা ততক্ষণে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি।

সেই দিন থেকে আমি আমার জীবনযাত্রা পুরোপুরি বদলে ফেলেছি। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি বাইরের সব ধরনের ভাজাপোড়া, মসলাদার ও ফাস্টফুড খাবার ত্যাগ করেছি। এখন হলের বাইরে থাকলেও চেষ্টা করি পুষ্টিকর ও ঘরে তৈরি বা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে। প্রচুর পানি আর সবুজ শাকসবজি এখন আমার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকে।

নিয়ম মেনে চলায় আমি এখন অনেকটাই সুস্থতার পথে, অপারেশনের টেবিল থেকেও আপাতত বেঁচে গেছি। নিজের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে আজ একটি কথাই সবাইকে বলতে চাই—আমাদের সামান্য অসচেতনতা বা মুখের একটু স্বাদের লোভ জীবনকে কতটা নরকযন্ত্রণা করে তুলতে পারে, তা আমি নিজে ভুক্তভোগী। বিশেষ করে যারা আমার মতো তরুণ বা হস্টেলে থাকেন, তারা বাইরের চকচকে কিন্তু অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলুন। শরীরে কোনো পরিবর্তন বা সমস্যা দেখা দিলে লোকলজ্জার ভয় না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সময়ের এক ফোঁড় আর অসময়ের একশ ফোঁড়। সুস্থতা আল্লাহর এক বড় নেয়ামত, একে অবহেলায় হারাবেন না।

আজকের সর্বশেষ সব খবর
  • আপনার এলাকার খবর খুঁজুন

    খুঁজুন
  • Design & Developed by: BD IT HOST